ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে আজ দুপুরে বাংলাদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ঐতিহাসিক এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট এলাকা) জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে গণসংবর্ধনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি আজ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে যোগ দেবেন। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে কুড়িল মোড় থেকে ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের কণ্ঠে এখন ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’ এবং ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’ স্লোগানে মুখরিত পুরো এলাকা।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য কুড়িল সংলগ্ন সড়কে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিশাল এই জনসমাগমের সুবিধার্থে পুরো এলাকায় শতাধিক মাইক এবং বেশ কিছু বড় ইলেকট্রনিক স্ক্রিন বসানো হয়েছে, যাতে দূর থেকে আসা নেতাকর্মীরা মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে পারেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেতার ফিরে আসায় তাঁরা উদ্বেলিত এবং তাঁর নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) এবং দলের স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলার দায়িত্বে কাজ করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বজায় রাখতে মঞ্চের দুই পাশে অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশে ফেরার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

