ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য, অতিরিক্ত পানি ও ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে রক্ত পরিষ্কার রাখে এই অঙ্গ। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার প্রভাব প্রথমেই দেখা যায় মুখ ও ত্বকে। অনেক সময় আমরা এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এগুলিই হতে পারে গুরুতর কিডনি সমস্যার আগাম সতর্ক সংকেত।
চিকিৎসকদের মতে, মুখের কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চোখে পড়লেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
১. চোখের নিচে দীর্ঘদিন ফোলা ভাব
সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখের নিচে হালকা ফোলা ভাব অনেকেরই দেখা যায়। কিন্তু এই ফোলাভাব যদি দিনের পর দিন থেকে যায়, তাহলে তা কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে গিয়ে চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেয়।
২. হঠাৎ মুখ ফুলে যাওয়া
মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফোলা বা ভারী লাগলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনি দুর্বল হলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরোতে পারে না। এর ফলে গাল, ঠোঁট ও মুখমণ্ডলে ফোলাভাব দেখা দেয়, যা কিডনির পানি ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
. ত্বকের রং ফ্যাকাশে বা হলদেটে হওয়া
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইরিথ্রোপয়েটিন (EPO) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন কম তৈরি হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গিয়ে রক্তাল্পতা দেখা দেয়। এর ফলে ত্বক ফ্যাকাশে বা হালকা হলদেটে হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টও অনুভূত হতে পারে।
৪. ঠোঁট ও মুখের ত্বক অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের খনিজ ও পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে ত্বক ও ঠোঁটে। মুখের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, ঠোঁট বারবার ফাটতে থাকে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৫. মুখে লাল র্যাশ ও চুলকানি
রক্তে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ কিডনি ছেঁকে ফেলতে না পারলে তার প্রভাব ত্বকে দেখা দেয়। মুখে লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, র্যাশ বা ক্রমাগত চুলকানি হতে পারে। এসব উপসর্গকে অ্যালার্জি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
কেন গুরুত্ব দেবেন?
কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তবে মুখ ও ত্বকের এই পরিবর্তনগুলো সময়মতো চিনে নিতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই শরীরের এই সতর্ক সংকেতগুলোকে অবহেলা না করে প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

