ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ মহাকাশে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ত্রুটির ফলে স্যাটেলাইটটির প্রোপালশন ট্যাংক বা জ্বালানি আধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে স্যাটেলাইটটি নিজস্ব কক্ষপথ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার নিচে নেমে আসে। এ সময় স্যাটেলাইট থেকে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি টুকরা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ধ্বংসাবশেষের গতি তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কক্ষপথ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান লিওল্যাবস জানিয়েছে, অন্য কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা বস্তু সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এ ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটটির ভেতরে থাকা কোনো শক্তির উৎস থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটির অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণের জন্য তারা নাসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, স্যাটেলাইটটি পুরোপুরি অক্ষত না থাকলেও এটি বর্তমানে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষগুলোর কক্ষপথ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অনেক নিচে অবস্থান করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা সেখানে কর্মরত নভোচারীদের জন্য এ ঘটনায় কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে ঠিক কতটি টুকরা শনাক্ত ও ট্র্যাক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
এর কয়েক দিন আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী চীনা কোম্পানি ‘সিএএস স্পেস’-এর একটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট। এর মধ্যেই নতুন এই ঘটনা ঘটল।
এ প্রসঙ্গে স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলস বলেছেন, সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অনেক সময় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্যাটেলাইটের সঠিক অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য অন্যদের সঙ্গে সময়মতো ভাগ করে না। এতে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন স্যাটেলাইট একে অপরের খুব কাছে চলে আসে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি সচল স্যাটেলাইট নিয়ে স্টারলিংকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। অকেজো ইউনিটগুলো বাদ দিলে কক্ষপথে থাকা মোট স্যাটেলাইটের প্রায় ৬৫ শতাংশই স্টারলিংকের দখলে।
এক বছরে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি বেড়েছে। এই স্যাটেলাইটগুলো স্পেসএক্সের ১২১টি পৃথক মিশনের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি তিন দিনে একটি করে উৎক্ষেপণ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

