ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ কিডনি শরীরের সেই নীরব কর্মী, যা প্রতিদিন বিষাক্ত পদার্থ ফিল্টার করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হরমোন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কিছু সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাস কিডনিকে অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সতর্ক না হলে কিডনি রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নীরব ক্ষতির কারণ: প্রতিদিনের অভ্যাসগুলো
১. ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) মাঝে মাঝে ঠিক আছে, কিন্তু নিয়মিত এবং অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির ওপর চাপ ফেলে। ব্যথানাশক খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
লবণ বা সোডিয়ামের অতিরিক্ত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ক্ষতি করে। খাবারে মশলা ও হার্বস ব্যবহার করে লবণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া
সোডিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার কিডনির জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। DASH ডায়েট অনুসরণ করে সমস্যাটি কমানো যায়।
৪. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
পর্যাপ্ত পানি কিডনিকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। দিনে ১.৫–২ লিটার পানি পান করা উচিত।
৫. কম ঘুম
ঘুম কম হলে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
৬. অতিরিক্ত মাংস খাওয়া
প্রাণিজ প্রোটিন বেশি খেলে কিডনির ওপর চাপ বাড়ে এবং অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি থাকে। প্রোটিন সুষমভাবে ফল ও সবজির সঙ্গে খাওয়া উচিত।
৭. চিনি বেশি খাওয়া
চিনি ও ওজন বাড়ানো খাদ্য কিডনির জন্য ক্ষতিকর। শুধু মিষ্টি নয়, সস, সিরিয়াল, পাউরুটি ইত্যাদিতেও লুকানো চিনি থাকে।
৮. ধূমপান
ধূমপান কিডনির শত্রু। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের মূত্রে প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে যা কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক সংকেত।
৯. অতিরিক্ত অ্যালকোহল
প্রতিদিন চারটির বেশি অ্যালকোহল কিডনি রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। ধূমপান থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায় পাঁচগুণ পর্যন্ত।
১০. দীর্ঘসময় বসে থাকা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা কিডনির ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত। শারীরিক সক্রিয়তা রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে রক্ষা করবেন কিডনি?
কিডনি রোগ নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সচেতন জীবনধারায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম এবং শারীরিক পরিশ্রম এই চারটি অভ্যাসই আপনার কিডনির প্রধান রক্ষক।

