ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আর মাত্র পাঁচদিন পর মাঠে গড়ানোর কথা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)-এর ১২তম আসর। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এই কাউন্টডাউন চলছে উৎকণ্ঠা আর নানা রকম শঙ্কা নিয়ে। বিপিএল মাঠে গড়াবে তো! এ প্রশ্ন এখন খোদ বিসিবি কর্তাদের মুখেই। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তত উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তত অস্থির হচ্ছে। বিশেষ করে আততায়ীদের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে ভীষণভাবে। সব বিবেচনা করে বিসিবি যেমন বিপিএল আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি বিকল্প ভাবনাও ভাবছে তারা। বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, ‘দেখেন দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি- তাতে উৎকণ্ঠাতো থাকছেই। তবে আমরা বিপিএল বন্ধ করবো এখনো এমন কোনো চিন্তা করিনি। আমরা আয়োজনের জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি সময়মতোই বিপিএল মাঠে গড়াবে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত আছি। আমরা তো পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাও বাতিল করেছি।’ আগামী ২৬শে ডিসেম্বর থেকে সিলেটে বিপিএল মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে। ২২ ও ২৩শে ডিসেম্বর দলগুলো ঢাকা ছাড়বে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচনের কারণে এবার ঢাকার বাইরেই পুরো বিপিএল আয়োজন হবে। সিলেটের পর বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব হবে চট্টগ্রামে। এরপর ঢাকায় শেষ পর্বটি হওয়ার কথা জানুয়ারিতে। কিন্তু ততদিনে ঢাকায় বাড়বে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। যে কারণে শেষ পর্যন্ত সিলেট বা চট্টগ্রামেই হতে পারে শেষ পর্বটি। তবে এমন বিষয় অস্বীকার করে ইফতেখার মিঠু বলেন, ‘দেখেন কারা যে এমন সব সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে তা আমরা জানি না। ঢাকায় শেষ পর্ব হবে না এমন আলোচনা আমরা করিনি। তবে বলেছি তো পরিস্থিতি দেখে বুঝে ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কাল কী হবে দেশের পরিস্থিতি তা আমরা আজ বলতে পারছি না। ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।’
দেশি-বিদেশি সব ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
২৩শে ডিসেম্বর থেকে দেশে আসতে শুরু করবে এবারের বিপিএলে অংশ নিতে যাওয়া ৬টি দলের বিদেশি ক্রিকেটাররা। তবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও ইফতেখার মিঠু মনে করেন এখানে দেশি বা বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তার কথা ভাবা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বিদেশি ক্রিকেটারদের কথা বলতে চাই না। সব দল ও প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবো। এক চুলও যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সেটি খেয়াল রাখা হবে।’
মিরপুরে বিসিবি একাডেমি মাঠে ইতিমধ্যে ঘাম ঝরানো শুরু করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। বাকি পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি- রংপুর রাইডার্স, সিলেট টাইটান্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, ঢাকা ক্যাপিটালস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসও পর্যায়ক্রমে অনুশীলনে নামবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের চুক্তি ও সরঞ্জামের কাজ শেষ। পাকিস্তান থেকে ভাড়া করা হয়েছে উন্নত টিভি প্রোডাকশন টিম। বিসিবি কর্মকর্তারা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতামত নেয়া হতে পারে। রাজনৈতিক উত্তাপ ও দু’টি জাতীয় দৈনিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি কিছুটা উদ্বিগ্ন। তবে টুর্নামেন্ট সিলেট থেকে শুরু হওয়ায় বোর্ড আশাবাদী। ২৬শে ডিসেম্বর থেকে ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটে টানা ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে লীগ স্থগিত করা হলে আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা যাবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করায় তারা টুর্নামেন্ট শুরুর পক্ষে। সবমিলিয়ে উৎসব ও উৎকণ্ঠার মিশেলে বিপিএলের এবারের কাউন্টডাউন এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শুরু হতে যাচ্ছে।

