ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ বিন্যাস ও সূচি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টাইগারদের গ্রুপ পর্বে মোকাবিলা করতে হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে। আইসিসি ঘোষিত সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নামবে বাংলাদেশ। দুপুর ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ক্যারিবীয়রা। ৯ই ফেব্রুয়ারি নবাগত ইতালির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচও কলকাতায়। টাইগারদের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে। বাংলাদেশের পরবর্তী দুই ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়; ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হবে ১৭ই ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সুপার এইট পর্বে যাবে। বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ২৮শে জানুয়ারি ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে বেঙ্গালুরুতে নামিবিয়া ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি’র। বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম প্রস্তুতির নীল নকশা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ব আসরের মূল পর্বের আগে ২৮শে জানুয়ারি আমরা বেঙ্গালুরুতে চলে যাবো। নামিবিয়া এবং আফগানিস্তানের সাথে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো।’ মোস্তাফিজুর রহমানের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ও ওডিআই সিরিজে ফেরা নিয়ে কথা বলেন ফাহিম। বোর্ড তাকে আইপিএলের অনুমতি দিলেও নিউজিল্যান্ড সিরিজে আট দিন দেশে থাকার শর্ত দিয়েছে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘ওডিআই সিরিজ যেহেতু আমাদের সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার একটা শঙ্কা বা সম্ভাবনা আছে, সে কারণেই তাকে রাখা হয়েছে। ওটা নিশ্চিত করাটা আমাদের জন্য জরুরি যে ওখানে যেন আমরা আমাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে খেলতে পারি।’ আইপিএলের আবহাওয়া থেকে হুট করে ওডিআই ফরম্যাটে ফেরা মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন হলেও মোস্তাফিজের উপস্থিতি দলের বোলিং শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি মনে করেন।
বিদেশের লীগে অভিজ্ঞতা
বিসিবি’র বর্তমান নীতিনির্ধারণী মহল ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ফাহিম মনে করেন, ফিরে আসা ক্রিকেটাররা নতুন পরিবেশ ও উন্নত প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। রিশাদ হোসেনের বিগ ব্যাশে খেলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যেকোনো ক্রিকেট যেটা খেললে আমাদের খেলোয়াড়দের লাভ হবে- এই এক্সপোজারগুলো খুব জরুরি। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা অনেক কিছু খেলোয়াড়দের দিতে পারি না, যেটা বিদেশে এভেইলএবল। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের খেলোয়াড়দের আরও পরিণত করবে।’ খেলোয়াড়দের পরিণত করতে বোর্ড কিছুটা ঝুঁকি নিতেও রাজি। এর আগে মোস্তাফিজকে আইপিএলে সুযোগ দিতে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সিরিজ হারের উদাহরণ টেনে তিনি ভবিষ্যতের জন্য এই বিনিয়োগকে জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
বিপিএলের পরই বিশ্বকাপ ব্যস্ততা
বিপিএল শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বকাপের ব্যস্ততা শুরু হবে। ২৩ জানুয়ারি বিপিএল ফাইনাল হওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি ভারতের উদ্দেশে রওনা হবে দল। মাঝখানের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে বিসিবি কঠোর নজরদারি রাখবে। ফাহিম জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ক্রিকেটারদের শারীরিক ধকল পর্যবেক্ষণ করা হবে। অতিরিক্ত ক্লান্তির লক্ষণ থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে বিশ্রামের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পরিশেষে ঘরোয়া ক্রিকেট ও সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গ টেনে ফাহিম বলেন, ‘ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বল দিয়ে খেলা না, এর মধ্যে যে ইমোশন থাকে সেটা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশটাও আস্তে আস্তে বদলাতে হবে।’ এছাড়া খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় চুক্তিও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

