ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ পেটের ক্যান্সার কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার মতো রোগ নয়। অনেকের ধারণা, এই ক্যান্সার ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সহজেই শনাক্ত করা যায়। বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। পেটের কিছু ক্যান্সার অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং অল্প সময়েই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। এমন পাঁচ ধরনের ভয়ংকর পেটের ক্যান্সার রয়েছে, যেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
অ্যাডেনোকার্সিনোমা: সবচেয়ে সাধারণ ও দ্রুত বিস্তারকারী
পেটের মোট ক্যান্সারের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই অ্যাডেনোকার্সিনোমা। এটি পাকস্থলীর শ্লেষ্মা ও হজমরস উৎপাদনকারী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়। এ ক্যান্সারের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। ইনটেস্টাইনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে এবং হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে ডিফিউজ অ্যাডেনোকার্সিনোমা দ্রুত ও অনিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তরুণ বয়সেও দেখা যেতে পারে। এই ক্যান্সারের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, হজমে সমস্যা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
পাকস্থলীর লিম্ফোমা: রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় আঘাত
লিম্ফোমা সাধারণত লিম্ফ নোডে দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি পাকস্থলীতেও শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এই ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব। এমএএলটি লিম্ফোমা ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণত এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। তবে ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা না করলে ঝুঁকি বাড়ে। এর উপসর্গ হিসেবে বারবার পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস, বুকজ্বলা ও বমি দেখা দিতে পারে।
জিআইএসটি: বিরল হলেও মারাত্মক
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার বা জিআইএসটি পাকস্থলীর দেয়ালের স্নায়ুকোষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। শুরুতে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু টিউমার বড় হলে পেটে ব্যথা, রক্তমিশ্রিত মল, অতিরিক্ত অবসাদ এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সময়মতো শনাক্ত হলে লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
কারসিনয়েড টিউমার: নীরব ঘাতকের মতো
কারসিনয়েড টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই উপসর্গহীন থাকে। পরে পেটের ক্র্যাম্প, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমি এবং ওজন হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট টিউমার এন্ডোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরানো সম্ভব হলেও বড় বা ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা: অত্যন্ত বিরল ও আক্রমণাত্মক
এটি পেটের সবচেয়ে বিরল ক্যান্সারগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের আলসার ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে পাকস্থলীর গ্রন্থিযুক্ত কোষে পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ক্যান্সার তৈরি হতে পারে। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ঘনঘন পেটব্যথা, রক্তস্বল্পতা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া। চিকিৎসায় সাধারণত বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।
পেটের ক্যান্সার একটি জটিল ও বহুমাত্রিক রোগ। প্রতিটি ক্যান্সারের বৃদ্ধি, উপসর্গ ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। কোনোটি ধীরে বাড়ে, আবার কোনোটি অল্প সময়েই ভয়াবহ রূপ নেয়। তাই সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।

