ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলতি বছর বিভিন্ন ঘরানার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এসব সিনেমায় শিল্পীদের দেখা গেছে নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। কেউ ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন, কোন অভিনীত আবার বিরতির পর ফিরছেন নতুনভাবে। ২০২৫ সালে আলোচিত ১০ অভিনেত্রীকে নিয়ে প্রতিবেদন।
জয়া আহসান
ঢালিউডে বছরের বড় চমক ছিলেন জয়া আহসান। কয়েক বছর ধরে কলকাতার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ২০২৫ সালে তাঁকে পাওয়া গেছে দেশের তিন সিনেমা ‘জয়া আর শারমিন’, ‘তাণ্ডব’ ও ‘উৎসব’–এ।
তিনটি ছবিতেই তিনি ছিলেন ভিন্ন মেজাজে—একটি করোনাকালে ঘরবন্দী অভিনেত্রী, সরকারের সমালোচনা করা দুঁদে সাংবাদিক; আরেকটিতে ভূত। অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিক্রমী চরিত্র বাছাই মিলিয়ে বছরজুড়ে তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
তমা মির্জা
বছরে মাত্র একটি ছবি ‘দাগি’—কিন্তু তমা মির্জার আলোচনায় থাকার জন্য যেন এটাই যথেষ্ট। ‘জেরিন’ চরিত্রে পরিণত অভিনয় করেছেন তমা। প্রথম অংশে বেকার প্রেমিককে নিয়ে ত্যক্তবিরক্ত জেরিন থেকে দ্বিতীয়ার্ধের পরিণত জেরিন হিসেবে তাঁকে মনে রাখতেই হবে। তাঁর রাগ, ক্রোধ থেকে অসহায়ত্ব দর্শককে ছুঁয়ে গেছে।
ইধিকা পাল
২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে আলোচনায় আসা কলকাতার অভিনেত্রী ইধিকা পাল এ বছরেও নজর কেড়েছেন। শাকিব খানের বিপরীতে ‘বরবাদ’–এ সাধারণ চাকরিজীবী থেকে প্রতিশোধপরায়ণ তরুণীর চরিত্রে—তাঁকে নতুন করে পরিচিতি এনে দেয়। শাকিব–ইধিকার রসায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বছরজুড়ে আরও কয়েকটি বাংলাদেশি সিনেমায় ইধিকার অভিনয়ের খবর শোনা যায়। কোনোটাই অবশ্য পরে সত্যি হয়নি।
শবনম বুবলী
শবনম বুবলীর বছরটি শুরু হয়েছিল মিশ্র অভিজ্ঞতা দিয়ে। একাধিক ছবির মুক্তি আটকে থাকলেও শেষে প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘জংলি’। ইন্টার্ন চিকিৎসক তিথির চরিত্রে তাঁর স্বচ্ছ, সাবলীল অভিনয় দর্শকের কাছে প্রশংসা কুড়ায়। পরে নতুন একাধিক ছবির শুটিং করেছেন। চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন একাধিক ছবিতে। তবে কাজের সঙ্গে বছরজুড়ে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরেও আলোচনায় ছিলেন তিনি।
পূজা চেরী
শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু থেকে পূজা এখন ঢালিউডের প্রতিষ্ঠিত মুখ। চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘টগর’–এ জয়িতা চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল বাস্তবধর্মী। কয়েক বছরে তাঁর ক্যারিয়ারে ওঠানামা থাকলেও এ সিনেমা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় আনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি আর নতুন ছবির শুটিং মিলিয়ে বছরজুড়েই আলোচনায় ছিলেন তিনি।
আজমেরী হক বাঁধন
‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর পর বাঁধনের বড় পর্দায় ফেরা হলো এ সিনেমা দিয়ে। ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্র লিনা ছিল নন–গ্লামারাস। তাড়া করে বেড়ানো অতীত, কর্মক্ষেত্রে একের পর এক প্রতিকূলতা, বসের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, বিশ্বাসভঙ্গ এবং শেষ দিকে হ্যান্ড টু হ্যান্ড অ্যাকশন—সবটাই ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বাঁধন।
মেহজাবীন চৌধুরী
বিদেশের বিভিন্ন উৎসব ঘুরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে সেপ্টেম্বরে মুক্তি পায় ‘সাবা’। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাবা হিসেবে মনে রাখার মতো অভিনয় করেন মেহজাবীন। সাবার প্রতিদিনের সংগ্রাম, একটু মুক্তির আশা, দিনের পর দিন অসুস্থ মায়ের সেবা করতে করতে ভেঙে পড়া—সবই মেহজাবীন ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকারভাবে।
এ ছাড়া বছরের শুরুতে নির্মাতা ও প্রযোজক প্রেমিক আদনান আল রাজীবের সঙ্গে বিয়ের খবর ঘিরে এই তারকা ছিলেন আলোচনায়।
তাসনিয়া ফারিণ
‘ইনসাফ’ দিয়ে প্রথম মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে নাম লেখান ফারিণ। সিনেমাটি তেমন বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও তাঁর গ্লামারাস উপস্থিতি, শরীফুল রাজের সঙ্গে রসায়ন মিলিয়ে ছিল আলোচনায়।
এ ছাড়া চলতি বছর প্রযোজনা শুরু, নতুন গান আর বছর শেষে শাকিব খানের সঙ্গে নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় ছিলেন ফারিণ।

