ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানোর দরকার নেই; বরং নিজেদের সক্ষমতাতেই রিজার্ভ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও আস্থা ফেরাতে ২০ কোটি টাকার উপরে নেয়া প্রতিটি ঋণ সরেজমিন যাচাই করতে উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন গভর্নর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত সংস্কার: চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। আমরা কোনো তথ্য গোপন করিনি। দুঃসময় থেকে কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে ব্যাংক খাত। ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছি। পুরো বিশ্ব অবাক বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা রান (সচল) করছে। তবে, ডিসেম্বরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ধার করে বা আইএমএফ থেকে অর্থ নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানোর দরকার নেই। আমাদের রিজার্ভ আমাদেরই বাড়াতে হবে। আমাদের লক্ষ্য চলতি বছরে ৩৪-৩৫ বিলিয়নে রিজার্ভ নিয়ে যাওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, গত ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ হাজার ৪৮২.৮৮ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭ হাজার ৮১৭.৮৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ২০ কোটি টাকার বেশি সব ঋণ নতুন করে যাচাই করা হবে। এ সব ঋণের জামানত ঠিক আছে কিনা, তা দেখা হবে। না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা দরকার। ভালো নেতা দরকার। এজন্য সরকারের কাছে আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সরকার এই আইন পাস করে দিলে সব করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার পাশাপাশি ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব সাধারণ আমানতকারী পুরো টাকা ফেরত পাবেন। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী একটা অংশ ফেরত পাবে। একই অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি সন্ধিক্ষণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংকিং খাতকে কীভাবে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরিষ্কার করতে হবে যে, তারা কি আগের মতো ক্ষমতাশালী পুঁজিপতিদের হাতে ব্যাংকিং খাতকে ব্যবহার করতে দেবেন, নাকি জনগণের কল্যাণে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজি জোগানের জন্য এই খাতকে ব্যবহার করবেন। ফাহমিদা খাতুনের মতে, দিনের শেষে অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়িত হয় রাজনৈতিক অর্থনীতির কবলের মধ্যে পড়ে। বরং সেই চেহারা ভালো না হলে তা জনগণের কল্যাণে আসে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের মাধ্যমে ব্যাংক খাত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এজন্য এখন খেলাপি ঋণ ৩৬ শতাংশ পৌঁছে গেছে। এখন যে সংস্কার হচ্ছে, তা রাজনৈতিক সরকার কতটা এগিয়ে নেবে-তা গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন- ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

