ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) যথাযোগ্য মর্যাদায় স্কুল সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষার্থীসহ স্কুল কমিউনিটির অংশগ্রহণে দেশের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিবেশিত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ঐক্যের চেতনাকে উদযাপন করা হয়।
আইএসডির প্রাইমারি স্কুল প্রিন্সিপাল ড. মাইকেল পালমারের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অ্যাসেম্বলি শুরু হয়। এরপর প্রাইমারি ইয়ার্স প্রোগ্রাম (পিওয়াইপি) ও মিডল ইয়ার্স প্রোগ্রামের (এমওয়াইপি) শিক্ষার্থীদের সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়, যা তাদের প্রতিভা ও উদ্দীপনাকে উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাসভিত্তিক বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে ‘আগামী পঞ্চাশে’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’, ‘চলো সবাই’ এবং ‘ও পৃথিবী এবার এসে’—গানগুলোর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
এছাড়াও দর্শকেরা ‘পতাকার মূল্য’ শীর্ষক নাট্য পরিবেশনা উপভোগ করেন। ‘ব্রেভ’ গানের ওপর সরাসরি সংগীত পরিবেশনা এবং কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার আবৃত্তি দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে এবং বিজয় দিবসের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ড. পালমার বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের যে আত্মত্যাগ রয়েছে, বিজয় দিবস আমাদের সেই ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন এই দিনটির প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করে বেড়ে ওঠে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের সমাবেশে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সম্মানের সঙ্গে এই আয়োজন প্রমাণ করে, তারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে হৃদয়ে কতটা শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করে। আজকের পরিবেশনাগুলো তাদের সৃজনশীলতা, দৃঢ়তা এবং দেশ নিয়ে গর্বের এক অনন্য প্রতিফলন; এ নিয়ে আমরা ভীষণ গর্বিত।”
এ আয়োজনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের অপরিসীম ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও কর্মীরা জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার পুনর্জাগরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আইএসডি।

