ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দুটি পাড়ার ক্লাব ও বাংলাদেশের ‘রেড অ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টার’ নামে একটি দল নিয়ে লাতিন-বাংলা সুপার কাপের আয়োজন করেন এএফ বক্সিং প্রমোশনের কর্ণধার মো. আসাদুজ্জামান নামে ব্যক্তি। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে কাফু-ক্যানেজিয়াকে ঢাকায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। জেমসের কর্নসাটের কথা বলে মোটা অংকের টিকিটও বিক্রি করেছেন তারা। ঘোষণা দিয়ে এর কোনটিই করতে পারেনি আয়োজকরা। বহুল আলোচিত লাতিন-বাংলা সুপার কাপ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিব্রতকর বিশৃঙ্খলায়। মাঝপথে বাতিল হয়ে যায় টুর্নামেন্টটি। টুর্নামেন্ট বাতিল হলেও এর রেশ এখনো কাটেনি। গতকাল রাত পর্যন্ত দেশে ফিরতে পারেননি আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। আজকের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক না হলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান এএফ বক্সিং প্রমোশনের বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
১১ই ডিসেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আতলেতিকো চার্লোন ও ব্রাজিলের সাও বের্নার্দোর মধ্যকার নির্ধারিত ফাইনাল ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। টুর্নামেন্ট স্থগিতের পর দুই বিদেশি দলই ১২ই ডিসেম্বর নির্ধারিত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, আয়োজকেরা বিমান টিকিট ও হোটেল বিল পরিশোধ না করায় এই বিপত্তি ঘটে। আর্জেন্টিনার ক্লাবকে গতকাল হোটেল পরিবর্তন করতে হয়। হোটেলেই আটকে আছে তারা। আজ তাদের সম্ভাব্য ফ্লাইট। এনএসসি’র নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একটা দেশের খেলোয়াড়দের ডেকে এনে এভাবে আপনি রাস্তায় ছেড়ে দেবেন, টিকিট দেবেন না, এইটা তো আপনার ছেলেখেলা নয়। আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি যে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য। এই টিকিটের ব্যবস্থা যদি উনারা না করে দেয়, উপদেষ্টা মহোদয় আছেন, সচিব মহোদয় আছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’ শনিবার ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও বের্নার্দোর কোচ এডসনও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশে আসার আগে দু’বার ভাববেন তারা। এডসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে চেক-ইনের সময়ই ব্রাজিলিয়ান দল জানতে পারে তাদের ফেরার টিকিট বাতিল করা হয়েছে। কোনো সমাধান না পেয়ে ব্রাজিলের দূতাবাসের সহায়তায় ক্লাবটিকে অতিরিক্ত খরচে নতুন করে টিকিট কিনে শনিবার তারা দেশে ফেরে। গত ৫ই ডিসেম্বর শুরু হয় লাতিন বাংলা সুপার কাপ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ক্লাবের সঙ্গে খেলার জন্য বাফুফে রেড অ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টার নামে একটি দল পাঠায়। এই দলের চার ফুটবলার আসেন দেশের বাইরে থেকে। তাদের বিমান টিকেট নিয়েও দুই নম্বরি করেছেন আয়োজকরা। ক্যাসপার হক ও ইব্রাহিম শনিবার ইংল্যান্ডে ফেরার জন্য সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সব কিছু ঠিকঠাক আছে বলেই তারা বিমানবন্দরে যান। তবে শেষ মুহূর্তে জানা যায়, তাদের রিটার্ন টিকিট আসলে কেবল রিজার্ভ করা ছিল, টিকিটের বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। টিকিট ইস্যু না থাকায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই তাদের আবার টিকিট কাউন্টারে ফিরে যেতে হয়। আর্জেন্টিনার ক্লাবটির ফুটবলাররাও টিকিটের কারণে এখনও দেশে ফিরতে পারেননি। টুর্নামেন্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্লাব ও দর্শকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে শুরু থেকেই। জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জাতীয় স্টেডিয়ামের বরাদ্দ বাতিল করে দেয়।

