ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। প্রথম দফায় ২৩৭টি ও এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৬টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এই প্রার্থীদের মধ্যে পরিবর্তন আসছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত শরিকদের সঙ্গে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকটি আসনে পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত মিলেছে।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষনা করেছে দলের হাই কমান্ড ।এবার চারটি আসনেই এবার নতুন মুখ দিয়েছে দল একটি আসন ফাঁকা রেখেছে শরিকদের জন্য। চারটি আসেনর মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী পরির্বতনের জন্য রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে মনোনয়ন বঞ্চিতরা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি, ক্রীড়া সংগঠক এবং মডেল ডি ক্যাপিটাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে কোনো প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জোটের শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তবে মনোনয়ন পাননি। যে কারণে এখনো তার সমর্থক বা অনুগত নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি।
নারায়ণগঞ্জ-২ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন বঞ্চিত চার প্রার্থী। তারা হলেন-সাবেক সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার, আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু। দুই সপ্তাহ বেশি সময় ধরে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আন্দোলন করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তারা যৌথভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সোনারগাঁয়ের সাবেক সংসদ-সদস্য ও বিএনপির সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। তারা প্রতিনিয়ত মানব-বন্ধন মর্শাল মিছিল করে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য শাহ আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মাসিকুল ইসলাম রাজিব, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান রনি। এ আসনি শরিক দলের জন্য রাখা হলেও থেমে নেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিরা।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন বঞ্চিত চার প্রার্থী। তারা হলেন-সাবেক সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, প্রাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসেন বিএনপির মনোনয়ন প্রাত্যাশি ছয়জন মাসুদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল কামাল, শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. শাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহনগর যুবদলের সাবেক সভপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।এর মধ্যে দলে থেকে মনোনয়ন পান মাসুদুজ্জামান মাসুদ এটা মানতে না পেরে এখন প্রার্থী পর্রিবতনের দাবীতে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে বঞ্চিতরা, তবে তাদের মধ্যে থেকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ কে সমথন দিয়ে মাসুদুজ্জামান মাসুদের সাথে কাজ করছেন মহনিগর বিএনপি সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মহনগর যুবদলের সাবেক সভপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।বাকীরা এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের কথা দল এখন পর্যন্ত কাউকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়নি। দল যাকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে আমরা কাজ করবো।

