ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটি আসেন প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষনা করেছে বিএনপির হাই কমান্ড। চারটি আসনেই এবার নতুন প্রার্থী দিয়েছেন বিএনপি আর এ প্রার্থীদের মানতে না পেরে প্রার্থী পরির্বতনের দাবী আন্দোলনে নেমেছে সাবেক এমপি ও নতুন করে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা।তাদের এ আন্দোলন কতটা সফল হবে তা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে এখন মনোনয়ন বঞ্চিতরা ।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তবে মনোনয়ন পাননি। যে কারণে এখনো তার সমর্থক বা অনুগত নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি। অপর দিকে দীপু ভুঁইয়ার দাবি করে বলেন কাজী মনিরুজ্জান তারে পাশেই আছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন বঞ্চিত চার প্রার্থী। তারা হলেন-সাবেক সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার, আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু। দুই সপ্তাহ ধরে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আন্দোলন করছেন। আতাউর রহমান আঙ্গুর বলেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান প্রার্থী পরির্বতন করে ভালো মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিগত ১৭ বছরের আমলনামা যাচাই-বাছাই করেই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। যারা মশাল মিছিল, সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদ সভা করছে তারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তারা যৌথভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সোনারগাঁয়ের সাবেক সংসদ-সদস্য ও বিএনপির সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। তারা প্রতিনিয়ত মানব-বন্ধন মর্শাল মিছিল করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জেল, জুলুম, হুলিয়া, নির্যাতন, অত্যাচারের শিকার হয়েছি। যে কারণে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে এই আসনটি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে উপহার দেব।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন বঞ্চিত চার প্রার্থী। তারা হলেন-সাবেক সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, প্রাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসেন বিএনপির মনোনয়ন প্রাত্যাশি ছয়জন মাসুদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল কামাল, শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. শাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহনগর যুবদলের সাবেক সভপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।এর মধ্যে দলে থেকে মনোনয়ন পান মাসুদুজ্জামান মাসুদ এটা মানতে না পেরে এখন প্রার্থী পর্রিবতনের দাবীতে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে বঞ্চিতরা, তরে তাদের মধ্যে থেকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ কে সমথন দিয়ে মাসুদুজ্জামান মাসুদের সাথে কাজ করছেন মহনিগর বিএনপি সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মহনগর যুবদলের সাবেক সভপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।বাকীরা এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের কথা দল এখন পর্যন্ত কাউকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়নি। দল যাকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে আমরা কাজ করবো।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসেন বিএনপির মনোয়ন প্রত্যাশি বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য শিল্পপতি শাহ আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মাসিকুল ইসলাম রাজিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফাঁকা রেখেছেন বিএনপির হাই কমান্ড। এ আসনটি জোট কে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির হাই কমান্ড দুই দফা প্রার্থী ঘোষনা করলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসেন কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি এতে অনেকটাই ধরে নেওয়া যাচ্ছে এ আসনটি জোটের জন্য দেওয়া হবে।

