ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ মশিউর রহমান রনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব। সম্প্রতি তার মানবিক ও সামাজিক কাজ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা।
গত বছরের ৫ই আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নানা মানবিক ও সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন রনি। এসব কাজ করে স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রশংসার ভাসছেন গুম থেকে ফিরে আসা এই যুবদল নেতা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার মূল উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এসব মানবিক ও সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন এ নেতা।
তিন বারের সাবেক প্রধানমস্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পরে থেকে প্রতিদিনই তার জন্য কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল দুস্থ মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের আয়োজন করছেন এ নেতা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি এ নেতা ছুটি বেড়াচ্ছেন মানব সেবায় সাহায্য নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে। নিজ অর্থায়নে কখনো করছেন এলাকাবাসীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খাল পরিষ্কার। আবার কখনো করছেন বেহাল সড়কের সংস্কার। কন্যাদায়গ্রস্ত অসহায় পিতার হাতে তুলে দিচ্ছেন আর্থিক অনুদান। নির্মাণ করে দিচ্ছেন দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার মাথাগোঁজার ঠাঁই। আলোহীন অন্ধদের হাতে তুলে দিচ্ছেন পথচলার দিশা। সবুজায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করছেন নানা প্রজাতির বৃক্ষ।
গত ১৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর বাসভবনের পুকুর সংস্কারের কাজের কারণে ফতুল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েক ইব্রাহিমের বাড়িটি ভয়াবহভাবে ধসে পড়ে। এরপর থেকে ওই বাড়িতে তার স্ত্রী, মেয়েসহ তিন নাতনি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছিলেন। এ খবর পেয়ে ওই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন রনি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমাদের বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের যত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ও নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ প্রত্যেকের পাশে দাঁড়ান রনি।
গত বছরের ১৯শে অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে তিন শতাধিক অন্ধদের মাঝে পথচলার জন্য সাদা ছড়ি বিতরণ করেন রনি। এর আগে ফতুল্লায় পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রীন বাংলাদেশ করার লক্ষ্যে সকল ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণ করেন রনি।
বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় ছিলেন রনি। এতে প্রশাসনের রোষানলের শিকার হন তিনি।
২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার আরামবাগ থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাকে তুলে নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি কে। ৬ দিন গুম করে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। হাত-পায়ের নখে ঢুকানো হয় সুচ। শরীরের বিভিন্ন অংশে গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। ঝুলিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় তার বাম হাত। মুখে কালো কাপড় বেঁধে ওজু করানো হয় এবং কলেমা পড়ানো হয়। তাকে ফতুল্লার এক খালি মাঠে ক্রসফায়ারে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। ভাগ্যের জোরে রনি প্রাণে বেঁচে যান। সেই দিন ফতুল্লার এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন, যার ফলে ক্রসফায়ারের পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। বীভৎস নির্যাতনের পরও রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক ১০৪টি মামলা। দফায় দফায় ১৬ মাস কারাভোগ করেন তিনি। রনির পরিবারের উপরও নেমে আসে ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসা। রনির বড় বোনের স্বামীকেও হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।
সামাজিক ও মানবিক কাজের বিষয়ে মসিউর রহমান রনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফার মূল লক্ষ্য সাধারণত মানুষের মধ্যে তুলে ধরতেই এই কাজগুলো করে যাচ্ছি। তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছি। দলীয় কোন চাওয়া পাওয়া নয়, মানুষের পাশে দাড়াতেই আমার এই সামাজিক ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও সেটা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মা দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ গুরুত্বর অসুস্থ আমরা সবাই আমাদের মায়ের জন্য দোয়া করবো আল্লাহ আমাদের মা সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।

