বিএনপির ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে শুরু হয়েছে নানামুখী প্রতিক্রিয়া। কোথাও উচ্ছ্বাস, কোথাও হতাশা, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে সংঘাত ও বিভাজনের সুর। তবে সেই উত্তাপের মাঝেও ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। এখানকার মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেই হাতে নিয়েছেন ঐক্যের উদ্যোগ।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। অনেক জায়গায় মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। এমনকি কিছু এলাকায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনাও ঘটেছে।
কিন্তু সোনারগাঁয়ে ছবিটা আলাদা।
এখানে মনোনয়ন পাওয়া আজহারুল ইসলাম মান্নান শুরু করেছেন ভিন্নধর্মী এক প্রচেষ্টা—ঐক্যের রাজনীতি। তিনি একে একে দেখা করছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে।
সম্প্রতি তিনি প্রথমে গিয়েছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসায়। সেখানে উভয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে এক ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে অধ্যাপক মামুনও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার মান্নান গিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের অফিসেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সাক্ষাতের ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সরাসরি গিয়ে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশে আমি প্রত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে দেখা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
আমরা সবাই মিলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি গিয়াস উদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। ফোনে না পেয়ে সরাসরি অফিসে গেছি, যদিও দেখা হয়নি। আবার আসব, দেখা করব—আমরা সবাই মিলেই ধানের শীষের জন্য কাজ করব।’
মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যেখানে সারাদেশে বিভাজন ও হতাশার সুর, সেখানে সোনারগাঁয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানের এই ঐক্যের উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই উদ্যোগ দলীয় ঐক্য সুসংহত করার পাশাপাশি আগামীর নির্বাচনে বিএনপির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

